আকাশছোঁয়া হচ্ছে রুপোর দাম?

২০২৬ সালে কেন বাড়ছে রুপোর দাম? সোলার প্যানেল এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) শিল্পে রুপোর চাহিদা এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত জানুন



২০২৫ সাল থেকে রুপোর (Silver) দামে যে গতি দেখা যাচ্ছে, তা ২০২৬ সালেও বজায় রয়েছে। একসময় রুপোকে কেবল গয়না বা মুদ্রার ধাতু মনে করা হলেও, বর্তমানে এটি আধুনিক প্রযুক্তির 'সাদা সোনা' হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল (Solar Panel) এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) ইন্ডাস্ট্রিতে রুপোর চাহিদা বাড়ার কারণে এর দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। 

সৌরশক্তি উৎপাদনে রুপো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রুপো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতু। সোলার প্যানেলের ফটোভোলটাইক কোষে বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য রুপোর পেস্ট ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেশগুলো সোলার এনার্জির দিকে ঝুঁকছে। ২০২৫-২৬ সালে সোলার প্যানেলের উৎপাদন কয়েক গুণ বেড়েছে।

আধুনিক TOPCon সোলার সেল আগের মডেলগুলোর তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি রুপো ব্যবহার করে। ফলে সোলার ইন্ডাস্ট্রি একাই এখন রুপো সরবরাহের প্রায় ২০% গ্রাস করছে।

ইভি-র ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং চার্জিং কাঠামোতে প্রচুর পরিমাণে রুপো ব্যবহৃত হয়। 

একটি সাধারণ পেট্রোল গাড়িতে যেখানে ১৫-২৮ গ্রাম রুপো লাগে, সেখানে একটি ইলেকট্রিক গাড়িতে ২৫-৫০ গ্রাম পর্যন্ত রুপো প্রয়োজন হয়। ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে ইভি-র বিক্রি বাড়ায় রুপোর চাহিদাও আকাশছোঁয়া হচ্ছে 

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ রুপোর দাম ভারতে প্রতি কেজি ২.৫ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। যেহেতু একটি সীমিত খনিজ এবং এর কোনো সস্তা বিকল্প বর্তমানে নেই, তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য রুপো এখন সোনার থেকেও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। 

 

 

Post a Comment

Previous Post Next Post